হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহীদ আব্বাস আসাদি কোম পুলিশ কমান্ডের নিরাপত্তা রক্ষাকারী মজলুম শহীদদের অন্যতম। ১৪০৪ সালের জানুয়ারি মাসে ইহুদি-আমেরিকান ফিতনায় (দাঙ্গায়) শহীদ হওয়ার পর তাঁকে কোমের নিকটবর্তী নিজ পৈতৃক গ্রামের নব্য প্রতিষ্ঠিত কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
গ্রামের এই কবরস্থানে তাঁকে দাফনের পর-যে গ্রামটি ইতিমধ্যেই ইসলামী বিপ্লবকে ১৭ জন শহীদ উপহার দিয়েছে-এই কবরস্থানটির নামকরণ করা হয় "কাজের শহীদ বাগান" (গোলজারে শোহাদায়ে কাজ)।
শহীদ আসাদির চার সন্তান ছিল এবং তিনি তাঁর পঞ্চম সন্তানের জন্মের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু শত্রুদের নিষ্ঠুর ভাড়াটে বাহিনী পিতা-পুত্রের মিলনের সেই মধুর মুহূর্তটি কেড়ে নেয়।
কয়েকদিন আগে, শহীদ আসাদির পঞ্চম সন্তান-পিতার শাহাদাতের প্রায় ছয় মাস পর-জন্মগ্রহণ করে। পরিবার শহীদের স্মরণে তাঁর নাম রাখে আব্বাস।
আজ, কাজ গ্রামের তাসুয়ার (মহররমের ৯ম দিন) বার্ষিক শোকযাত্রায় এই মহান শহীদের নবজাতক সন্তান প্রথমবারের মতো পিতার সমাধিতে উপস্থিত হয় এবং এই অনুষ্ঠানে এক আধ্যাত্মিক ও বেদনাবহ আবহ তৈরি করে।
উল্লেখ্য, কাজ গ্রাম পবিত্র কোম শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ৮ বছরব্যাপী ইরাক-ইরান যুদ্ধে এই গ্রামটি ১৭ জন শহীদ উপহার দিয়েছে। শহীদ আব্বাস আসাদি এবং শহীদ মুহাম্মদ রেজা জাভেদও ১৪০৪ সালের জানুয়ারির ফিতনা ও রমজানের যুদ্ধে এই গ্রামের শহীদদের কাতারে যোগ দিয়েছেন।
আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, ইমাম খোমেইনি (রহ.) ১৩৪১ সালে (হিজরি সনে) ইসলামী আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক শুরু হওয়ার আগেই এই গ্রামে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। প্রয়াত হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সৈয়দ আহমদ খোমেইনির বরাত দিয়ে জানা যায়, ইমাম খোমেইনি তাঁর জীবনে কেবল এই মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে কারণেই এই গ্রামের মানুষ ইসলামী বিপ্লবের প্রথম দিন থেকেই বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় এবং যুদ্ধে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষই সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয়, যার ফলশ্রুতিতে ১৭ জন শহীদ হয়।
আপনার কমেন্ট